1️⃣ চুল নখ না কাটা
হযরত উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
তোমাদের মধ্যে যারা কুরবানী করবে তারা যেন এই ১০ দিন চুল ও নখ না কাটে।
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ ، قَالَتْ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ” مَنْ رَأَى مِنْكُمْ هِلَالَ ذِي الْحِجَّةِ، فَأَرَادَ أَنْ يُضَحِّيَ، فَلَا يَقْرَبَنَّ لَهُ شَعَرًا وَلَا ظُفْرًا “.
(অতএব যিলহজ্বের চাঁদ উদিত হওয়ার পূর্বেই এসব পরিস্কার করে নেয়া উচিত)
2️⃣ দিনে নফল রোযা ও রাতে ইবাদত করা
যিলহজ্ব মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার পর থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত যত দিন সম্ভব রোজা রাখা। আর রাতের বেলা বেশি বেশি ইবাদত করা।
হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যিলহজ্বের দশদিনের ইবাদত আল্লাহর নিকট অন্যদিনের তুলনায় বেশি প্রিয়। প্রত্যেক দিনের রোজা এক বছরের ন্যায়। আর প্রত্যেক রাতের ইবাদত লাইলাতুল কদরের ইবাদতের ন্যায়।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : ” مَا مِنْ أَيَّامٍ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ أَنْ يُتَعَبَّدَ لَهُ فِيهَا مِنْ عَشْرِ ذِي الْحِجَّةِ، يَعْدِلُ صِيَامُ كُلِّ يَوْمٍ مِنْهَا بِصِيَامِ سَنَةٍ، وَقِيَامُ كُلِّ لَيْلَةٍ مِنْهَا بِقِيَامِ لَيْلَةِ الْقَدْرِ “.
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যিলহজ্ব মাসের প্রথম ১০ দিনের আমল আল্লাহ তা’আলার নিকট যত প্রিয় আর কোন দিনের আমল তার নিকট তত প্রিয় নয়।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ” مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهِنَّ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنْ هَذِهِ الْأَيَّامِ الْعَشْرِ “.
3️⃣ আরাফার দিন রোজা রাখা
প্রথম নয় দিন বিশেষ করে আরাফার দিন অর্থাৎ ৯ যিলহজ্ব নফল রোযা রাখা। (তবে আরাফায় উপস্থিত হাজী সাহেবদের জন্য নয়)
হযরত আবু কাতাদা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আরাফার দিনের রোযার ব্যাপারে আমি আশাবাদী যে, আল্লাহ তায়ালা তার (রোযাদারের) বিগত এক বছরের ও সামনের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দিবেন।
عَنْ أَبِي قَتَادَةَ ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : ” صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ إِنِّي أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ، وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ “.
4️⃣ তাকবীরে তাশরীক বলা
যিলহজ্ব মাসের ৯ তারিখের ফজর থেকে ১৩ তারিখের আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরয নামাজের পর একবার তাকবীর তাশরীক্ব বলা ওয়াজিব। পুরুষেরা আওয়াজ করে, আর মহিলারা নীরবে তাকবীর বলবে।
তাকবীর তাশরীক্ব:
اللّٰهُ اَكْبَر اللّٰهُ اَكْبَر، لآ اِلهَ إلاّ اللّٰهُ و اللّٰهُ اَكْبَر اَللّٰهُ اَكْبَر، ولِلّٰهِ الحَمْد
5️⃣ সচ্ছল ব্যক্তির কুরবানী করা
যিলহজ্ব মাসের ১০,১১,১২ তারিখের যেকোনো দিন কোন ব্যক্তির মালিকানায় নিত্য প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা বা এর সমমূল্যের সম্পদ থাকলে তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব। পুরুষ মহিলা সকলের উপরে এ বিধান প্রযোজ্য।
কঠোর হুঁশিয়ারি
হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কুরবানী করলো না। সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : ” مَنْ كَانَ لَهُ سَعَةٌ وَلَمْ يُضَحِّ فَلَا يَقْرَبَنَّ مُصَلَّانَا “.